"Hot Post" টরেন্টে সীডস, পিয়ার্স, ট্র্যাকার, পিসেস এগুলো কী? "AtoZ"

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু মন লাগিয়ে পড়েন, আপনার করা সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এবং, বোনাস হিসেবে আরও কিছু পাবেন। টরেন্ট (.torrent): টরেন্ট হচ্...



শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটু মন লাগিয়ে পড়েন, আপনার করা সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এবং, বোনাস হিসেবে আরও কিছু পাবেন।

  • টরেন্ট (.torrent): টরেন্ট হচ্ছে একটা Peer-to-Peer (P2P) ভিত্তিক জনপ্রিয় ফাইল শেয়ারিং প্রটোকল। এটি আসলে একটা কম্পিউটার ফাইলকেই বোঝায় যাতে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত মেটাডাটা সংরক্ষিত থাকে। এই ফাইলে মূলতঃ টরেন্টের যাবতীয় তথ্য, যেমন- ট্রাকার, ফাইল লিস্ট, লোকাল পিয়ার ইনফরমেশন ইত্যাদি থাকে। টরেন্ট ফাইলের এক্সটেনশন হলো .torrent। একটা টরেন্ট ফাইল সাইজে আর কতোই হয়- কখনো ৩৯/৪০কেবি, ১৫৬কেবি এরকমই কয়েক কিলোবাইট সাইজই তো! আর, এই টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করার জন্য যা লাগে তার নাম হলো 'টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়ার', যেমন- utorrent, Transmission, BitTorrent ইত্যাদি।
  • ম্যাগনেট লিনক (Magnet link): সহজ ভাষায় ম্যাগনেট লিনক হলো .torrent ফাইল ডাউনলোড করার একটি হাইপারলিনক। এক্ষেত্রে আপনাকে টরেন্ট ফাইলটি নামাতে হবে না, ম্যাগনেট লিনকে ক্লিক করলেই আপনার টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়ার (utorrent, BitTorrent, etc) নিজে থেকেই ডাউনলোড শুরু করে দেবে।
  • টরেন্ট ফাইল প্যাকেট ও পিসেস (Pieces): ধরুন, আপনি একটি ১০০ মেগাবাইটের (MB) একটি টরেন্ট ফাইল নামাচ্ছেন, সেটা কেউ না কেউ একদম শুরুতে বানিয়েছে তো, না-কি? আচ্ছা, সে ঐ টরেন্ট ফাইল প্যাকেজটি তৈরির সময় সেই ১০০ মেগাবাইটকে কতগুলো টুকরোয় বিভক্ত করে (পিয়ার টু পিয়ার সিস্টেমের মূল থিয়োরি এটাই) নিয়েছে তার টরেন্ট ক্লায়েন্টের (utorrent, bitTorrent) মাধ্যমে।
জ্বি— ইউটরেন্ট, বিট টরেন্ট দিয়ে শুধু ডাউনলোড নয়, আপনি নিজে টরেন্ট ফাইল বানাতেও পারবেন।
এই টুকরো টুকরো অংশগুলোকে বলা হয় 'পিসেস'। একটা টরেন্ট ফাইল বিভিন্ন সাইজের (64kb, 128kb, 256kb, 512kb, 1MB, 4MB) পিসেসে বিন্যস্ত হয়ে এক (1) টুকরো (পূর্ণ) হয়। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ বা পিসেসের সংখ্যা টরেন্ট ফাইলের ভেতরে লেখা থাকে। তাহলে, সেই টরেন্ট ক্রিয়েটার যদি 100MB এর সেই ফাইলটাকে 256kb এর মাত্রায় পিস করে, তবে 100 MB সেই প্যাকেটটি ৪০০ টি ২৫৬কিলোবাইটের একটি প্যাকেট। এখানে এই ৪০০টি ই হচ্ছে উক্ত ফাইলটির 'Pieces'. টরেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে এই প্যাকেটিং একটি।


Pieces
উপরের চিত্রটির নিচের অংশে দেখুন- আমি একটি ফাইল সিলেক্ট করে তার পিসেস সম্পর্কে ভিজুয়ালাইজ করার চেষ্টা করেছি ইউটরেন্ট ইউজ করে। ফাইলের সাইজ কলাম দেখুন, তারপর পিসেসের ঘরে তাকান। দেখুন 699 MB এর বড় ফাইলটা 700 Pieces এ ভাগ করা।
  • টরেন্ট যেভাবে কাজ করেঃ ট্রডিশনাল সার্ভার (HTTP) কাজ করে একক 'একটি' সেন্ট্রালাইজ সিস্টেম হিসেবে যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি সার্ভার/কম্পিউটার দায়িত্বে থাকে এত এত লোকের রিকোয়েস্ট পূরণের নিমিতার্থে! এক্ষেত্রে আবার সেই ওয়েবসাইটের ব্যান্ডউইথ, ধীর গতি, ইন্টারনেট স্পিড প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। আর যদি সার্ভার থেকে কোন ফাইলকে মুছে ফেলা হয়, তবেই 'কাম সারছে'!!
ইয়েস, টরেন্টিং এ এসব কোনও ঝামেলাই নেই। আপনার ইন্টারনেট স্পিডের উপরে ডাউনলোডিং এর খুব বেশি (অল্প একটু আছে) প্রভাব নেই। কারণ এটি কাজ করে P2P- পদ্ধতিতে।
 এখানে কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। টরেন্ট তার ব্যবহারকারীদের উপর নির্ভরশীল, কোনও ধরনের সার্ভারের উপরে নয়; অর্থাৎ এটি ডিসেন্ট্রালাইজস! সেই যে Pieces জানলেন, সেই ক্ষুদ্র অংশগুলো বিভিন্ন কম্পিউটার/সার্ভারে থাকে। তাই যারা কোনো টরেন্ট ফাইল পুরোটা ডাউনলোড করেছেন, অথবা সেই সময় অন্য কেউ একি ফাইলের কিছু পিসেস ডাউনলোড করে ফেলেছেন- তারা সবাই তখন সেই ফাইলের পিয়ার টু পিয়ার চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন।
সোজা বাংলায়, P2P সিস্টেমে সবাই ডাউনলোড করছেন, একি সাথে আপলোডও করছেন! এইখানটাতে, টরেন্ট নেটওয়ার্কে থাকা প্রত্যেক কম্পিউটার সার্ভার ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করে। আপনার নেটওয়ার্কের উক্ত ফাইলটির আপলোড স্পিডের উপর আরেকজনের ডাউনলোড স্পিডের পার্সেন্টেজ নির্ভর করে, আর এর ঠিক উল্টোটা আপনার জন্য খাটে। এভাবে আরও কতো, কতজন এই প্রক্রিয়ায় আপনার সাথে যুক্ত থাকে বুঝতে পারছেন? ট্যাকনিক্যাল কচকচানি বাদ দিয়ে, এই থিমটুকু নিয়ে চিন্তা করবেন পুরো লেখাটা পড়া শেষে— বুঝে যাবেন। আর এই আপলোডার, ডাউনলোডার ব্যাপারটি একটু পরেই বুঝতে পারবেন, আশা রাখি!

  • Seeds & Seeder: এই যে, কোনও একটা ফাইল/পিসেস নামালেন, সেই সাথে ইন্টারনেট চালু রাখা অবস্থায় অন্যকে নামানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন, এইক্ষেত্রে আপনি একজন সিডার- সিডিং করে অন্যকে ডাউনলোড করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
ভালভাবে সিড করার জন্য utorrent/bitTorrent এর ডাউনলোডের ফোল্ডারটি (যেখানে টরেন্ট ফাইলগুলো রাখবেন) যেন বড় স্পেসের হয়। মানে, লোকাল ডিস্ক/সি ড্রাইভে রাখবেন না; বড় ভলিউমের ড্রাইভ সিলেক্ট করে দেবেন ডাউনলোডেড আইটেমগুলো রাখার জন্য।

  • Leech/Leechers (&Peer): যখন আপনি আরেকজনের (সিডার) কাছ থেকে ডাউনলোড করছেন, তখন আপনি লিচার- মানে লিচ করছেন। একি সাথে পিয়ারের অংশ হয়ে যাচ্ছেন, এইজন্য পিয়ার ব্রাকেট বন্ধনীতে। আবার যদি আপনি শুধু ডাউনলোড করেন, কিন্ত আপলোড বন্ধ রাখেন বা ফাইলটি আপনার সার্ভার/কম্পিউটার (ফোল্ডার) থেকে ডিলিট করে দেন, তখন আপনি পিউর লিচার। কারণ, আপনি শুধুই নিচ্ছেন; কিন্ত কিছুই দিচ্ছেন না - দেন, ইউ আর অ্যা পু'র, ভেরি পু'র ম্যান! এই 'ভিখারি লিচার'দের অনেক টরেন্টিং সাইট একেবারে ব্যান করে দেয়- অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী নয়, আপনার আইপি অ্যাড্রেস অনুসারে।

পিয়ার লেখাটাকে ব্রাকেট বন্ধনীতে রাখার আরও উদ্দেশ্য আছে। সবাইকে একই সাথে সিডারও বলছি আবার লিচারও বলছি, তাহলে ট্রাকারে সিড ও পিয়ার/লিচার লিস্ট দু'টির মান আলাদা কেন?

—কারণ হলো, কেউ পুরো ফাইলটি নামিয়ে ভালো ইন্টারনেট কানেকশন সহ এবং আরো কিছু ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে আপলোড/সিড চালু রাখে। তখন তারা সিডার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (পুরোটা নামিয়ে সিড করার আগ পর্যন্ত লিচার লিস্টে থাকে)—একজন পরিপূর্ণ সিডার, গুড টরেন্টার। এবং, সেই 'ভিখারি লিচার' অথবা আপলোড স্পিড ১ বা তার কম দিয়ে রাখা পাব্লিকেরা শুধুমাত্র লিচার(পিয়ার) লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরা সিডার লিস্ট থেকে বাদ পরে যায়। এদের কারণে টরেন্টের 'Health' খারাপ হয়ে যায়।


মাথায় হালকা একটু টোকা/চিন্তা দেই, হু… যেকোনো টরেন্ট ফাইলের সাথে সিডারস ও লিচারসের আলাদা করে যে তথ্য দৃশ্যমান থাকে, সেগুলোকে যোগ করলে দেখবেন পাশের কলামে থাকা পিয়ারস সংখ্যার সাথে মিলে যাচ্ছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে- (সিডারস + লিচারস) সংখ্যা = পিয়ারস সংখ্যা; এই পিয়ারস সংখ্যা দেখে বোঝা যায় এতোগুলো মোট পিয়ারস অ্যাক্টিভ আছে, যেগুলো আপনার কাঙ্ক্ষিত ফাইলটি ডাউনলোডে সাহায্য করবে (ইতনে সারে কায়েনাত আপনার উদ্দেশ্যপূরণে উঠেপড়ে লাগবে ;P)। Got some senses here?


~Peers উপরের চিত্রটি দেখুন তো- বামে লাল দাগের '%' দেয়া ঘরটি আপনার ডাউনলোড পিয়ারিং দেখাচ্ছে। মাঝের Up Speed এর ঘরটি দেখাচ্ছে, আপনি কি পরিমাণ আপনার ব্যান্ডউইথ/আপলোড স্পিড অন্যদের দান করছেন। এবং, একদম ডানপাশের Uploaded এর ঘরটি দেখাচ্ছে কী পরিমাণ অন্যদের কাছ থেকে নিচ্ছেন। এই ব্যাপারটা আরও বেশি ভালো করে বুঝতে পারবেন, যদি কখনো নিজে টরেন্ট ফাইল ক্রিয়েট করে কোথাও আপলোড করতে পারেন।
  • Ratio: ভাল টরেন্ট সাইটগুলোতে টরেন্টিং করার জন্য যখন একটি অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে হয়, তখন একটা রেশিয়োও মেইনটেইন করতে হয়। এটা বোঝা কঠিন কিছু না।রেশিয়ো হচ্ছে- আপনার আপলোড (Seeding) এবং ডাউনলোডের (Leeching) এর অনুপাত। এই রেশিয়ো কোথাও ০.৫, কোথাও বা ১.০ - এরকম মেইনটেইন করতে হয় আর কি- এটা হচ্ছে নূন্যতম রেশিয়ো, যা রাখতে না পারলে অ্যাকাউন্ট সাময়িক সাসপেনসন সহ আরও কিছু সমস্যার সৃষ্টি করবে—পার্মানেন্ট ব্যানও করে দিতে পারে, এই ধরনের ব্যান করার প্রক্রিয়াকে আমরা বলি 'সোলেমানি ব্যান'! হাহাহাহাহা..

  • Trackers: এটা মূলতঃ ফিজিক্যাল সার্ভার ও সিডারের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। সেই যে লেখার শুরুতে বললাম (ফাইল প্যাকেট ও পিসেস অনুচ্ছেদ দ্রষ্টব্য), ট্রাকার থাকে, পিসেসে ভাগ করা থাকে। হুম, এই ট্রাকারের কাজ হচ্ছে উক্ত ফাইলটির কত সিডারস আছে, কতগুলো পিসেসে ভাগ করা আছে, অংশগুলো ঠিক কতজনের (Peers) কাছে যাচ্ছে— এরকম তথ্যগুলোর খোঁজ রাখা এবং, শো করা।
এই খোঁজ রাখা আর দেখানোর কাজটি তারা ইউটরেন্ট/বিটটরেন্ট এর মতো সফটওয়ারগুলোতে যেমন করে, তেমনি টরেন্ট সাইটগুলোতেও করে- যার কারণে আপনি সবজায়গাতেই সিডারস, লিচারস, পিয়ারস সংখ্যা সহ আনুষঙ্গিক আর সব তথ্য দেখতে পারেন। এই ট্রাকার তো সেই ছোট্ট সাইজের কিলোবাইট ফাইলে ক্রিয়েট করার সময় থেকেই ইনপুট করা থাকে; কাঁঠালের আঠা- লাগায় দিসে, তো আর ছাড়াছাড়ি নাই! It's like location tracker software we've used into smart phones today.
~Trackers
(উপরের চিত্রটি দেখুন)-এখানে আমি ইউটরেন্টে সিড করা একটি ফাইল সিলেক্ট করে Trackers ট্যাবে ক্লিক করে ট্রাকারের কাজটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দেখেন সিড, পিয়ারের হিসাব (এটা আপনার ব্যক্তিগত হিসেব) তো রাখছেই, সাথে অন্যরা কতক্ষণে আপনার কাছ থেকে পিসেসটা/গুলো ঠিকঠাক ডাউনলোড কর‍তে পারবে সেই সময়টাও কাউন্ট করছে (Update In); যেহেতু পরিপূর্ণ সিডার তাই আমার ডাউনলোডের (Downloaded) ঘর শূন্য বা (N/A) দেখাচ্ছে। ট্রাকার একই কাজ টরেন্ট সাইটগুলোতে করে। পার্থক্য শুধু, এখানে সে একজন ইউজারের হিসেব/ট্রাক করছে; আর ওখানে, যারা যারা এ পর্যন্ত উক্ত ফাইলটি নামিয়েছে তাদের সবার হিসেব/ট্রাক করছে একইভাবে৷ বুঝেছেন?
ট্রাকারের ব্যাপারটা হাতে কলমে ভালো শেখা যায় টরেন্ট ফাইল তৈরি কর‍তে গেলে। টরেন্ট ফাইল তৈরির সময় PirateBay এর মত ভালো মানের টরেন্টিং সাইট থেকে যখন ট্রাকার (ট্রাকার url) নিয়ে কাজ করবেন, অথবা নিজেই টরেন্ট ট্রাকার বানাতে শিখবেন।


  • Indexers: এটা ঐ ওয়েবসাইট, যেখানে সাধারণত টরেন্ট সম্পর্কে তথ্য থাকে, যেমন - PirateBay, Yts, Kickass, CrazyHD, EZTV Torrent, TorrentBD, Lime, 1337x এর মত কিছু টরেন্টিং সাইট- এদের পোশাকি নাম আর কি Indexers!


**মনে রাখবেন-

  • যখন টরেন্টিং করবেন তখন আপনি একটি কমিউনিটির অংশ, যার ভালোমন্দ আপনার হাতেই। যতোটা পারেন সিড করুন, আপলোড রেশিয়ো ভালো রাখুন (রেশিয়ো মেইনটেইন করতে না হলেও)। আপনি নিজেই ভাল টরেন্টিং এর সেবা পান তখনি, যখন অন্যজনেরা সেই ফাইল ভালো পরিমাণে সিডিং করে।

  • যারা কোনও একট ফাইল পুরো ডাউনলোড শেষ করে, সিডিং/সিড করে, তারা Seeders হিসেবে সিড লিস্টে থাকে। আর যারা কোনও ফাইল পুরো ডাউনলোড শেষ করেনি, কিংবা শেষ করেও সিড দিচ্ছে না, অথবা ডাউনলোড করে ডিলিট করে দিয়েছে—তারা প্রত্যেকেই Leechers হিসেবে লিচ লিস্টে থাকবে। Seeders রা সিড করে, Leechers রা লিচ করে।

  • ইউটরেন্ট'রা আপনাকে সিডস আর লিচ/পিয়ার হিসেবে দেখায় যে, আপনি কতোটা সিডিং করছেন, অথবা কতটা লিচ(পিয়ার লিস্ট) করছেন। ডাউনলোড পুরো শেষ হয়ে গেলে যদি ফাইল ডিলিট না করেন, আর ইন্টারনেট অন থাকে- তখন ইউটরেন্ট নিজে থেকেই ফাইলটা সিড করতে থাকে, এক্ষেত্রে আপনার কিচ্ছু করতে হবে না, যা করার সে-ই করবে।

  • ডাউনলোড স্পিড বেশি পেতে চাইলে, যেসব ফাইলের সিডার বেশি; কিন্ত লিচারের সংখ্যা কম- সেই ফাইল ডাউনলোড দেবেন। সিডারের সংখ্যার উপরেই আপনার ডাউনলোড স্পিড বাড়ে-কমে কিনা! তারমানে, লিচারের চেয়ে সিডার যতো বেশি, ডাউনলোড স্পিড ততই ভালো পাবেন। যেখানে সিডারের সংখ্যা শূন্য/খুব কম, সেটা আশা করি আর নামাতে যাবেন না! এবং, সিডারের সংখ্যা লিচারের তুলনায় কম হলে, সেই ফাইল না নামানোই ভালো।

  • Peer রা, মানে Peer list এর লোকজন আপনার আইপি অ্যাড্রেস দেখতে সক্ষম হলে, সেটা আপনার জন্য বিপজ্জনক! এইধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে VPNs ব্যবহার কর‍তে পারেন। তবে, ফ্রি কিংবা থার্ড পার্টি ভিপিএন্স ব্যবহার করবেন না। জানেন ই তো, সস্তার কী দুরাবস্থা হয়!

  • যেখানে, যেদেশে, যে অঞ্চলে পাইরেটেড টরেন্টিং করা নিষিদ্ধ, সেখানে সেই ধরনের টরেন্টিং করবেন না। তবে যদি আপনি DarkWeb, DeepWeb কিং হয়ে থাকেন, তাহলে তো আলাদা কথা!

  • শেষ কথা- টরেন্টিং সবসময় বৈধ না হলেও, সবসময় অবৈধও নয়। অনেক নামি-দামি টরেন্ট সাইট আছে, যা কপিরাইট-মাইট সব আইন দিয়েই বৈধ। আর বাদবাকি ক্ষেত্রে টরেন্টিং এর বৈধতা নির্ভর করে আপনার অবস্থান, আর্থিক সঙ্গতি, নৈতিকতা, পরিস্থিতিসহ আরও কিছু ব্যাপারের উপর। পাইরেটেড ফাইল ছাড়াও বহু, বহু, বহু ধরনের ফাইল এই P2P শেয়ারিং প্রটোকলের মাধ্যমে মানুষ ডাউনলোড করে থাকে। এই টরেন্টিং হচ্ছে একটা ইনোভেশন, একটা রিভ্যুলেশনারি আইডিয়া।

মূল কথা হচ্ছে:

টরেন্ট ব্যবহার করে যা নামাবেন, সেই ফাইলগুলো ইন্টারনেট কানেকশন থাকা অবস্থায় সীড করবেন। ঠিকঠাক সীড করলেই আপনি একজন ভালো আপলোডার হয়ে যাবেন। নতুন নামানো ফাইলটি কমপক্ষে ১ মাস সীড করুন।

যে সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট করতেই হয়, সেখান থেকে অনেকগুলো ছোট ছোট ফাইল (যেমন- ১০০MB, ২০০MB) যেগুলো ডিমান্ডেবল, সেগুলো নামিয়ে অনবরত সীড করাতে থাকলে আপলোডার হিসেবে আপনার রেশিয়ো না বাড়লেও আপনার বোনাস পয়েন্ট বাড়বে। এই বোনাস পয়েন্ট ডোনেট করার মাধ্যমে আপনি পরবর্তীতে বেশ কিছু সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। যদি সম্ভব হয়, কিছু টরেন্ট ফাইলস তৈরি করে সেই সাইটে/Indexers এ আপলোড করুন। এতে করে রেশিয়ো খুব সহজে আর্ন করতে পারবেন, সবসময়ই ভালোমানের রেশিয়ো মেইনটেইন করতে পারবেন। এই রেশিয়ো হচ্ছে আপনার অ্যাকাউন্টের রেশিয়ো- মানে, ঐ সাইট থেকে এ পর্যন্ত যতো ফাইল নামাইছেন তাদের আপলোড ও ডাউনলোডের অনুপাত।

ইউটরেন্টে দেখানো রেশিয়ো বোঝাবে, আপনার কোনো একটি ফাইলের আপলোড ও ডাউনলোডের অনুপাত। একইভাবে, উপরে বলা seeders-leechers(peers) এর হিসেব এখানে আপনার প্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ইকুয়েশন হবে। সোজা কথা, যেকোনো টরেন্ট সাইট কোনও একটি ফাইলের জন্য তার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ট্র্যাক করবে, সিডারস, লিচারস, পিয়ারস গুনবে। আর আপনার utorrent/bittorrent গুনবে আপনার seeds, peers(leech).


সীড করার পদ্ধতি খুব সহজ। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা অবস্থায় সফটওয়্যারগুলোতে (ইউটরেন্ট বা বিটটরেন্ট) ক্লিক করে অ্যাক্টিভ করুন। এক্ষেত্রে ইউটরেন্ট'দের Computer/PC এর Taskbar এ Pin করে রাখুন। ইউটরেন্ট এভাবে অন থাকলেই সে একা একাই আপনার ইন্টারনেট পার্সোনাল কানেকশনের হিসেবে সিড করতে থাকবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ইউজ করে মোবাইল/ট্যাবে টরেন্টিং না করাটাই ভালো— সীডিং সহজে করা যায় না, খুব সমস্যা হয়।

যখন টরেন্টে কিছু ডাউনলোড করবেন, তখন utorrent এর নিচের পোরশনে গিয়ে files, peers, trackers, pieces ট্যাবগুলোতে ক্লিক করে একদিন লক্ষ্য করুন, অনেককিছু বুঝতে পারা যাবে। Pieces ট্যাবে তখন লক্ষ্য করলে দেখবেন পিসেসগুলো কিভাবে ডাউনলোড হচ্ছে, Peers এ দেখতে পারবেন কোথায় আপনার সাথে কোন টরেন্ট ক্লায়েন্টের পিয়ার হচ্ছে, Files এও কিছু বুঝতে পারবেন, Trackers ট্যাবে ট্রাকিং আরও ভালো দেখতে পারবেন। এই তো…

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, শুভকামনা রইলো…




COMMENTS

নাম

Android Root,2,Hacking,3,Lifestyle,5,Magic & Spells,1,Mystery,7,Paranormal,3,Parapsychology,5,Programming,3,Sci-Fic,10,Telepathy,2,Tips & Trick,9,
ltr
item
টিপসগুরুবিডি: "Hot Post" টরেন্টে সীডস, পিয়ার্স, ট্র্যাকার, পিসেস এগুলো কী? "AtoZ"
"Hot Post" টরেন্টে সীডস, পিয়ার্স, ট্র্যাকার, পিসেস এগুলো কী? "AtoZ"
https://lh3.googleusercontent.com/-pWWCQ2svYkI/Xn3c6d4KqHI/AAAAAAAAAhQ/XSxSIIYSYxwqjv7KSsmDBUFxJRt0k-ghgCLcBGAsYHQ/s1600/IMG_ORG_1585306841864.png
https://lh3.googleusercontent.com/-pWWCQ2svYkI/Xn3c6d4KqHI/AAAAAAAAAhQ/XSxSIIYSYxwqjv7KSsmDBUFxJRt0k-ghgCLcBGAsYHQ/s72-c/IMG_ORG_1585306841864.png
টিপসগুরুবিডি
https://www.tipsgurubd.com/2020/03/post.html
https://www.tipsgurubd.com/
https://www.tipsgurubd.com/
https://www.tipsgurubd.com/2020/03/post.html
true
5738539415743076435
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL বিস্তারিত পড়ুন Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy